মো. বদরুল আলম মুকুল।।

প্রিয় সহকর্মী বৃন্দ সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন। টাইমস্কেল সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে আমরা প্রধান শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বেশ কয়েক বার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব, মো. ফসিউল্লাহ মহোদয় ও প্রাগম এর সিনিয়র সচিব,জনাব মোঃ আকরাম আল হোসেন মহোদয়ের সাথে একাধিকবার সাক্ষাৎ ও আলোচনা করেছি। আলোচনা কালে প্রতিবারই আমরা ০৯/০৩/২০১৪ পরবর্তী টাইমস্কেল প্রাপ্তির স্বপক্ষে জড়ালো যুক্তি তুলে ধরেছি ।

এতে আমরা আশাবাদী ছিলাম যে, আমরা টাইমস্কেল পাব। সিনিয়র সচিব ও মহাপরিচালক মহোদয়ের এ বিষয়ে আন্তরিকতার কোনই ঘাটতি দেখিনি । তাই টাইমস্কেল প্রাপ্তিতে আমরা প্রায় শতভাগ আশাবাদী ছিলাম।

কিন্তু দুঃখের বিষয় গত মাসের ১৪ সেপ্টেম্বরে মহাপরিচালক মহোদয় চাকুরী থেকে অবসরে চলে যাবার আগেই ৬ সেপ্টেম্বর একটা চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন যে, প্রধান শিক্ষক পদটি ০৯/০৩/২০১৪ থেকে ২য় শ্রেণিতে উত্তির্ন হওয়ায় প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা।
এই চিঠি পাওয়ার পরপরই আমরা ছুটে গেলাম মহাপরিচালক মহোদয়ের কাছে। স্যার আপনি এই চিঠি প্রত্যাহার করে নিন। মহাপরিচালক মহোদয় আমাদেরকে জানিয়ে দিলেন এখানে তার কোনই হাত নেই করারও কিছুই নেই। এটা উপরের নির্দেশ।

তখন আমরা সিনিয়র সচিব মহোদয়ের সাথে সাক্ষাত করার জন্য চেষ্টা করতে থাকি। অবশেষে সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখে দেখা করার সুযোগ পেলাম ।
সিনিয়র সচিব মহোদয়ের সাথে সাক্ষাতকালে আমরা টাইমস্কেলের কথা তুলতেই স্যার রেগে গেলেন। এবং আমাদেরকে বললেন আমি এবিষয়ে কয়েকবার অর্থমন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি তারা বার বার নেগেটিভ উত্তর দেয়।আমি আর তাদের কাছে বারবার ছোট হবনা। আপনারা অর্থমন্ত্রণালয়ের এর সাথে দেখা করেন।
তখন আমরা সিনিয়র সচিব মহোদয়ের নিকট অনুরোধ করতে লাগলাম যে, স্যার আপনি চলে যাবার আগে শেষ বারের মত অর্থমন্ত্রণালয়ে একটা সুপারিশ পাঠান আমরা আর আপনাকে বিরক্ত করতে আসবোনা।

আমাদের অনুরোধে সিনিয়র সচিব মহোদয় গত ২৯/০৯/২০ অমতে টাইমস্কেল পাওয়ার যথাযথ যুক্তি তুলে ধরে একটা চিঠি পাঠায়। আমরা ঐ দিনই চিঠিটা হাতে পাই এবং কাজের সুবিদার্থে বিষয়টি গোপন রাখি এবং ফেসবুকে একটা পোস্ট করি শিক্ষকদের জানিয়ে আর কোন কাজ করা হবেনা। কাজের পর জানানো হবে।
এ কারনে অনেকেই সেদিন আমার উপর নাখোশ হয়েছিলেন।

প্রাগম মন্ত্রণালয়ের ২৯ সেপ্টেম্বরের চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর পরই আমরা অর্থমন্ত্রণালয়র সাথে সাক্ষাতের জন্য চেষ্টা করতে থাকি, অবশেষে আমরা গত ১৩ তারিখে অর্থমন্ত্রণালয়ের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পাই।

এর পরের কাহিনী তো আপনাদের সবারই কমবেশি জানা। আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে টাইমস্কেল পাওয়ার স্বপক্ষে অনেক যুক্তিই সেদিন তুলে ধরেছিলাম। একঘন্টার আলোচনায় আমরা কম চেষ্টা করিনি । প্রধান শিক্ষক পদটি যে পদোন্নতি হয়নি কিম্বা প্রধান শিক্ষকগন ২য় শ্রেণির নয়। ৩য় শ্রেণির কোড থেকে বেতন পাচ্ছে,সার্ভিস বুক চলমান, বাইনেমে গেজেট প্রকাশ হয়নি ইত্যাদি ইত্যাদি সবই বলেছি। তারা মানতে নারাজ। সালিশ মানি কিন্তু তালগাছটি আমার।
একজন যদি বুঝেেও না বুঝার ভান করে মানতে না চাই তাহলে আমাদের কি করার আছে?

আমরা অতিরিক্ত সচিব সত্যজিৎ স্যারের সাথে আলোচনা কালে, মামলা নিয়ে একটি শব্দও ভুলেও উচ্চারণ করি নাই। অথচ আমাদের অনেক প্রধান শিক্ষক বন্ধুগন আছেন। তারা নাজেনে নাবুঝে মন গড়া কথা বলেন। এ সব ঠিকনা। তারা যদি এতোই ভালো বুঝেন বা পারেন তাহলে কাজ করছেন না কেন? বসে আছেন কেন? ওখানে তো কারোর যেতে মানা বা নিষেধ নেই। আপনারা কাজ করুন আমরা আপনাদের লজিস্টিক সাপোর্ট দিব ও সহযোগিতা করবো।

হয় কাজ করুন, তা নাহলে চুপ থাকুন। আমাদেরকে কাজ করতে দেন, উৎসাহ অনুপ্রেরণা দেন। কাজ করার অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করেন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।

আসুন আমরা আলোচনা সমালোচনা পরিহার করে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি। তা নাহলে কোন কিছুই হবে বলে আমার মনে হয় না।

আমরা ১৩ অক্টোবর অর্থমন্ত্রণালয়ের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং সাক্ষাৎ অব্যহত রাখার জন্য অনুরোধ করে এলাম। কিন্তু তারা আমাদের কথা রাখলেন না। বরং১৫ অক্টোবর চিঠি দিয়ে সাব জানিয়ে দিলেন যে,প্রধান শিক্ষক পদটি ০৯/০৩/২০১৪ থেকে ২য় শ্রেণিতে উন্নিত হওয়ায় টাইমস্কেল প্রদান করা সম্ভব নয়।
আপনারা সবই শুনলেন ও বুঝলেন।

এখন আপনারা পরামর্শ দেন আমরা কি করতে পারি। এমুহুর্তে আমদের করনীয় কাজ কি?
কোন পথে আগাবো? কি করলে ভালো হয়?
এ সব বিষয়ে আপনারা আমাদেরকে সার্বিক ভাবে সাহায্য সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো।
আমরা আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।

লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি।

The post ২০১৪ পরবর্তি টাইমস্কেল নিয়ে কিছু কথা appeared first on শিক্ষাবার্তা ডট কম.

Leave a Reply

%d bloggers like this: