<

p style=”text-align: justify;”>ঢাকা: ‘বাংলাদেশ এবং বিশ্বজুড়ে, মেয়েরা তাদের নিজ সমাজে একটি প্রভাব ফেলছে এবং এর বাইরেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। তারা শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মী হিসাবে পথ দেখিয়ে চলেছে এবং প্রমাণ করছে যে, ভবিষ্যৎ গঠন এবং অন্যের জীবনের উন্নতি সাধন করতে বয়স কখনই গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যা বা মেয়েদের পেছনে ফেলে রেখে আমরা সাফল্য অর্জন করতে পারি না।’

আন্তর্জাতিক মেয়েশিশু দিবস উপলক্ষে রোববার (১১ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশন, কানাডার হাইকমিশন, ফ্রান্সের দূতাবাস, জার্মানি দূতাবাস, নেদারল্যান্ডসের দূতাবাস, নরওয়ের দূতাবাস, সুইজারল্যান্ডের দূতাবাস, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়ছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনেক মেয়েরই শিক্ষার সুযোগ সীমিত বা একেবারেই নেই, যা তাদের সমাজে সম্পূর্ণরূপে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাকে খর্ব করে। তারা অনলাইনে, ক্লাসরুমে, এমনকি নিজ বাড়ি ও সমাজেও সহিংসতার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রতি ২০ জন মেয়ের মধ্যে একজন বা বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৩ মিলিয়ন মেয়ে তাদের জীবনকালে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। করোনা মহামারি মেয়েদের এসব চ্যালেঞ্জকে অনেকগুণে বৃদ্ধি করেছে, যা লিঙ্গ বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

শিক্ষা, পুষ্টি এবং শিশু ও মাতৃমৃত্যুতে অভূতপূর্ব উন্নতির পরও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও এই নেতিবাচক প্রবণতাটির অভিজ্ঞতালাভ করেছে। আন্তর্জাতিক মেয়েশিশু দিবস এই অসমতাগুলোকে দূর করতে পুনরায় অঙ্গীকারবদ্ধ হবার একটি সুযোগ। কারণ বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যাকে পেছনে ফেলে রেখে আমরা সাফল্য অর্জন করতে পারি না। লিঙ্গ সমতার প্রতি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতি সত্যিই প্রশংসনীয়। লিঙ্গ সাম্যতা এবং মেয়েদের অধিকারকে এগিয়ে নিতে তৃণমূল পর্যায়ে দুর্দান্ত কাজের জন্য আমরা নাগরিক সমাজ, বেসরকারি সংস্থা এবং কমিউনিটিগুলোর প্রশংসা করি।

বাংলাদেশ এবং বিশ্বজুড়ে, মেয়েরা তাদের নিজ সমাজে একটি প্রভাব ফেলছে এবং এর বাইরেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। তারা শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মী হিসাবে পথ দেখিয়ে চলেছে এবং প্রমাণ করছে যে, ভবিষ্যৎ গঠন এবং অন্যের জীবনের উন্নতি সাধন করতে আপনার বয়স কখনই গুরুত্বপূর্ণ নয়।

আন্তর্জাতিক মেয়েশিশু দিবস উপলক্ষে সারা বাংলাদেশ থেকে এমনই বেশ কয়েকজন মেয়ে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটিতে একদিনের জন্য রাষ্ট্রদূত এবং হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছিল।

স্বাধীনভাবে তাদের নিজ ভবিষ্যৎ গড়ার অধিকার করার প্রয়োগ করতে; সামাজিক পরিবর্তনকে ত্বরান্বিতকারী এক প্রজন্মের নেতৃত্ব দিতে; এবং সম্ভাবনাময় জীবন যথাযথভাবে যাপনের অধিকারী হতে এই কৈশোর বয়সী মেয়ে রাষ্ট্রদূতরা চেইঞ্জ মেকার হিসাবে তাদের দৃঢ়তা দেখিয়েছেন এবং লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা ও ক্ষতিকারক আচরণ থেকে মুক্ত থাকার দাবি জানিয়েছেন।

এ বছরের আন্তর্জাতিক মেয়েশিশু দিবসের বিষয়বস্তু, সম ভবিষ্যতের দাবি, আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মেয়েরা যখন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের সুযোগ পায় তখন সবারই উপকার হয়। মেয়েরা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করুক!

প্রসঙ্গত, ১১ অক্টোবর হলো আন্তর্জাতিক মেয়েশিশু দিবস। এই দিবসটি মেয়েদের দাবি ও তাদের ক্ষমতার উদযাপন, বিশ্বব্যাপী তাদের অধিকার রক্ষা এবং শুধুমাত্র মেয়ে হবার কারণে তারা যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় তা ভেবে দেখার জন্য উৎসর্গীকৃত একটি দিন।

The post ‘মেয়েদের পেছনে ফেলে রেখে সাফল্য অর্জন অসম্ভব’

appeared first on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

Leave a Reply

%d bloggers like this: