স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ ও উর্ধ্বতন ম্যানেজমেন্টের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে দুজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন- মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আসাদুর রহমান এবং উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ও প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (সিআরও) মো. আব্দুল লতিফ।

যোগ্য কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব সামলানোর পরও তাদের যোগ্যমূল্যায়ন করা হচ্ছিল না। বাড়ানো হয়নি তাদের সুযোগ সুবিধা। ফলে এক ধরনের ক্ষোভ থেকে তারা পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পদত্যাগ করা দুই কর্মকর্তার একজন বলেন, ডিএসইতে মধ্যে এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা চলছে। যোগ্যদের কাজের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। এ ধরনের কার্যক্রমের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সম্প্রতি ডিএসইর কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ পত্রে বলা হয়, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে বোর্ড এবং ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তে আমাদের বেতন-ভাতাদি, সার্ভিস রুল, অন্যান্য প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা দফায় দফায় কমানো হয়েছে। যা ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইনের ১৮(ছ) ধারার ব্যত্যয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কয়েক দফা বৃদ্ধি করেছেন, সেই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও তাদের বেতন বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু ঢাকা স্কট এক্সচেঞ্জ বিভিন্ন সময়ে তাদেরে কর্মীদের সুবিধা বৃদ্ধির পরিবর্তে বন্ধ করে দিয়েছে। যা ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইনের ১৮(ছ) ধারার পরিপন্থী।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্মীদের যেসব সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করেছে তার একটি চিত্রও তুলে ধরা হয় চিঠিতে। এর মধ্যে রয়েছে-

২০১৮-১৯ অর্থবছরের পারফরমেন্স ইনক্রিমেন্ট বাতিল।
২০১৯-২০ অর্থ বছরের ইনক্রিমেন্ট, পারফরমেন্স ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা।
অর্জিত ছুটি বাতিল (কর্মীদের জমানো অর্জিত ছুটি)।
অর্জিত ছুটির টাকা বাতিল। গুটিকয়েক কর্মকর্তাকে টাকা প্রদান এবং বিনা নোটিশে ছুটির টাকা প্রদান না করা।
যাতায়াত ভাতা বাবদ মূল বেতনের ২০ শতাংশ কর্তন।
খাদ্য ভাতা বন্ধ। মাসিক ১ লাখ টাকা ক্যান্টিন বাবদ এবং জুনিয়র কর্মীদের কর্মস্থলের বাহিরে কাজের কারণে যে খাদ্য ভাতা প্রদান করা।
প্রফিট বোনাস ৫ শতাংশ বন্ধ করার প্রক্রিয়া চলমান।
এলএফএ (লিভ ফেয়ার অ্যাসিসটেন্ট) বাবদ বেতনের ১০ শতাংশ কর্তন।

<

p style=”text-align: justify”>ডিএসইর ৩৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা দিতে প্রতিমাসে ডিএসইকে ৩ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে বছরে ব্যয় হচ্ছে ৩৮ কোটি টাকা। এই অর্থের বড় শতাংশই নিয়ে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।

তাদের মধ্যে রয়েছে- ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও), প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) এবং প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও)।

Leave a Reply

%d bloggers like this: