<

p style=”text-align: justify;”>না! বুড়ি ঘুমুতেই দেবে না। রোজকার মতো আজও শুরু করেছে মরা কান্না। মুন্নার ইচ্ছে করছে মাথার নীচের ইটটা তুলে বুড়ির মাথায় একটা ঘা বসিয়ে দিতে। বুড়ির কান্না চিরতরে বন্ধ করে দিতে। তারপর একটা শান্তির ঘুম।

ঘুম ঘুম চোখে মাথার নীচের ইটটা হাতে তুলে নেয় মুন্না। অন্য হাতে গায়ের নোংরা চাদরটা টানতে টানতে এগিয়ে যায় সে। একটু দূরে গিয়ে ঘুমাবে। বুড়ির কান্না সহসা থামবে না। কোমরের ব্যাথায় বুড়ি অন্তত আরও ঘণ্টাখানেক চিৎকার করে কাঁদবে আর ট্রেন লাইনের মালিককে বকাঝকা করবে। কারণ ট্রেন লাইনে পড়ে গিয়েই বুড়ি ব্যাথা পেয়েছিল। বুড়ির কান্না থামলেই বুড়ি ঝগড়া শুরু করবে। কার সাথে ঝগড়া করবে, কেন করবে তার ইয়ত্তা নেই। কান্না থামলেই বুড়ি ঝগড়া করে। অথবা এমনও হতে পারে ঝগড়া করার জন্যই কান্না থামায় সে। ঝগড়া শেষে তার আয়েশি নাস্তা। পান্তা ভাতের সাথে শুকনো মুড়ি। বয়স বাড়লেও বুড়ির দাঁত পড়েনি। মচমচ শব্দে সে মুড়ি চিবোয়। খাওয়া শেষে তেল চিটচিটে তাবুর ব্যাগ হাতে নিয়ে সে বেরিয়ে পড়বে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে। সামনে দিয়ে মুন্নাকে যেতে দেখে বুড়ি বকাঝকা শুরু করে দেয়। মুন্নার ইচ্ছে করছে হাতের ইটটা বুড়ির মাথায় ছুড়ে মারতে। কিন্তু সে মারে না। ভাবলেশহীন ভাবে কিছুটা দূরে গিয়ে মাথার নীচে ইট দিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ে সে।

কি পড়ল মুখের উপরে! হালকা গরম, তবে তেলতেলে। মুন্না ঘুমের মাঝেই হাত দিয়ে মুছতে গিয়ে সারামুখে লেপটে দেয়। কি এটা! মুন্না ঘুমঘুম চোখে বোঝার চেষ্টা করে। নাকের কাছে হাত এনে গন্ধ শুখে। চামসে গন্ধ। সে চোখ খুলে তাকায়। একি! তার মুখে কোন পাখি পায়খানা করেছে। মুন্না উপরে তাকায়। কারেন্টের তারের উপর কিছু দাঁড় কাক বসে আছে। ওদেরই কেউ হয়তো কাজটি করেছে। মুন্নার চোখে ঘুম, পাখির পায়খানা নিয়ে ভাবার সময় তার নেই। তাই সে গায়ের চাদর দিয়ে মুখ মুছে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। সে আরও ঘুমুতে চায়। নিরবিচ্ছিন্ন, শান্তির ঘুম। কিন্তু শান্তির ঘুম সে দিতে পারে না। সকাল হয়েছে। ফুটপাতে মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। আর এখানে ঘুমনো যাবে না। সে উঠে পড়ে। আশেপাশে তাকায়। কেউ নেই। তারা একসাথে অনেকেই ঘুমিয়েছিল। সবাই যার যার কাজে বেড়িয়ে পড়ছে। শুধু সেই এখনো ঘুমুচ্ছে।

শরতের সকাল। ঝলমলে রোদ উঠেছে। তবে অনেক গরম। সেদিকে কোন ভ্রূক্ষেপ নেই মুন্নার। সে দ্রুত হাঁটছে। ট্রেনের হুইসেল শোনা যাচ্ছে। ট্রেন থামার আগেই তাকে স্টেশনে পৌঁছাতে হবে। আজ একটু বেশি দূরে ঘুমিয়ে পড়েছিল। চাইলে স্টেশনে থাকতে পারতো। কিন্তু থাকেনি। ইদানিং স্টেশনে পুলিশ খুব উৎপাত করে। কথা নেই, বার্তা নেই ধুম করে ঘুমের মাঝে বাড়ি মারে। অকারণে মারে। কেন রে। আমাদের কি শরীর না। আমাদের ব্যাথা লাগে না! তবে ব্যাথা নিয়ে মুন্নার কোন সমস্যা নেই। সে মার খেতে খেতেই বড় হয়েছে। তাই সয়ে গেছে। কিন্তু ঘুমে ব্যাঘাত তার একদম সহ্য হয় না। অন্য দিকে আছে এনজিওদের যন্ত্রণা। যখন সে গভীর ঘুমে থাকে, তখনই ডেকে তুলে। তারপর কাপড় বা খাবার দেয়। কেন রে বাবা! তোদের কাছে কি আমি কাপড় বা খাবার চেয়েছি? আমি নিজে যা রোজগার করি তাতেই আমার চলে যায়। শুধু শুধু ঘুমের ডিস্টাব। মুন্না কখনোই এনজিওয়ালাদের থেকে কিছু নেয় না। সে ফ্রিতে কিছুই চায়না। গায়ে খাটতে জানে। রোজগার করতে জানে। তাই নেয়না। যখন গভীর রাতে এনজিও কর্মীদের দেওয়া জিনিস ফিরিয়ে দেয়, তারা অবাক হয়। কেমন অসহায়ের মতো তাকায়। মুন্নার তখন খুব ভালো লাগে। বড়লোকদের অসহায়ত্ব দেখে সে খুব মজা পায়।

ট্রেন থামার আগেই মুন্না স্টেশনে পৌঁছে গেছে। তীক্ষ্ণ চোখে এদিক ওদিক তাকায়। একজন বড় ব্যাগওয়ালা মানুষ খুঁজছে। সবসময় যে বড় ব্যাগ টানলেই ভালো টাকা দেয়, তা না। কখনো কখনো বড় বড় দুটি ব্যাগ স্টেশনের বাইরে এনে দিলেও মাত্র পাঁচ টাকা দিয়ে বিদায় করে দেয়। আবার কেউ কেউ ছোট একটি ব্যাগ টানার জন্যও বিশ-পঞ্চাশ টাকা দিয়ে দেয়। আবার কিছু কিছু বদ মানুষ আছে, তাদের ব্যাগে হাত দেয়ার সাথে সাথেই চড়াৎ করে থাপ্পর মেরে দেয়। তখন মুন্নার ইচ্ছে করে কোমরে থাকা ছোট্ট ছুরিটা তার পেটে বসিয়ে দিতে। তবে মুন্নার চোখ এখন অভিজ্ঞ। সে বুঝতে পারে কোন ব্যাগ ধরলে টাকা পাওয়া যাবে। সে কবে থেকে এ স্টেশনে আছে, তা সে নিজেই বলতে পারবে না। হয়তো এখানেই তার জন্ম। আবার অন্য কোথাও জন্ম হতে পারে। হয়তো জন্মের পরেই কেউ এই স্টেশনে তাকে ফেলে গেছে। তাই এখানেই তার বেড়ে ওঠা। কতোই বা বয়স হবে। ষোল কি সতেরো। আরও কমও হতে পারে। স্টেশনে ধুঁকতে ধুঁকতে বেড়ে ওঠা শিশুর যেমন বড় হতে বেশি সময় লাগে, তারপর আবার এদের বয়সও খুব দ্রুতই বেড়ে যায়। তাই এদের স্বাভাবিক বয়স ঠাওর করা খুবই মুশকিল।

ট্রেন থামার সাথে সাথে সে খুব দ্রুত জানালা দিয়ে ট্রেনে ঢুকে পরে। কাঙ্ক্ষিত বস্তার সন্ধান সে পেয়ে গেছে। সে খপ করে বস্তা ধরে বলে চাচা ব্যাগ নিয়ে দেই। চলেন কোথায় যাবেন। চল। স্টেশনের বাইরে নিয়ে চল। বলেই বৃদ্ধ লোকটি হাঁটা শুরু করে। ভাব দেখে মনে হচ্ছে, খুব সহজেই সে একটা কুলির সন্ধান পেয়ে গেছে। মুন্নাও হাঁটতে থাকে বৃদ্ধের সাথে সাথে। গিয়ে বৃদ্ধের ব্যাগটি সে রিকশায় তুলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে লোকটি মুন্নার হাতে দুটো বিশ টাকার নোট ধরিয়ে দেয়। এটুকু কাজের জন্য একটি নোটেই সন্তুষ্ট থাকতো সে। সেখানে দুটো নোট পেয়েছে। বেজায় খুশির বিষয়। তবে সে খুব একটা খুশি হয় না। সারাদিনে তার একশ টাকা রোজগার করলেই হয়। এতেই তার তিনবেলা খাওয়া হয়ে যায়। তাই সে একশ টাকা রোজগার করতে পারলে আর মুট বয় না। অতিরিক্ত টাকার তার দরকার নেই। প্রতিদিন যে সে একশ টাকা রোজগার করতে পারে তেমনটা নয়। যেদিন কম রোজগার হয়, সেদিন সে কম খেয়েই থাকে। টাকা নিয়ে মুন্না আবার স্টেশনের ভিতর চলে যায়। সারাদিন সে সেখানেই থাকে। খাওয়া, কাজ বিশ্রাম সবই স্টেশনে। কখনো কখনো তার মতো আরও কয়েকজনের সাথে মিলে কোন বোতলকে ফুটবল বানিয়ে খেলা করে। আবার বিড়ি সিগারেটও খায়। মাঝে মাঝে নানান রকম নেশা করে।

মুন্নার দিনটা আজ খুবই ভালো। সে বিকেলের আগেই একশ টাকা রোজগার করে ফেলেছে। তাই সে আর মুট বইবে না। কিন্তু সন্ধ্যা হতে তো অনেক সময় বাকী। সন্ধ্যে হলেই সে আরামবাগের মোড়ে ছুটে যাবে। কিছুদিন যাবত এটা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আরামবাগ মোড়ের কথা মনে পরাতে একটা খুশির ঝিলিক বয়ে যায় মুন্নার মনে। হঠাৎ করেই সে সীদ্ধান্ত বদল করে। সে আরও মুট বইবে। তাকে আরও বিশ টাকা রোজগার করতে হবে। ট্রেনের হুইসেল শোনা যাচ্ছে। মুন্না সামনে ছুটে যায়। নতুন স্বপ্নের সন্ধানে। তার আজ আরও বিশ টাকা রোজগার করতে হবে।

ইদানিং মশার উৎপাত খুব বেড়েছে। মুন্নার যদিও মশার কামড় গা সওয়া। এটা নিয়ে তার কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। সে ভাবছে শিউলির কথা। ও এখনো আসছে না কেন? ও তো সন্ধ্যার পরেই এখানে চলে আসে। ফুলের মালা বিক্রি করে। জ্যামে আটকে থাকা গাড়ির জানালায় আঘাত করে। ফুল লাগবে কিনা জিজ্ঞেস করে। বেশিরভাগ মানুষই ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। তবে কেউ কেউ নেয়। কেউ যখন শিউলির কাছ থেকে ফুল কেনে, তখন শিউলির মুখে এক অপরূপ হাসির রেখা ফুটে ওঠে। তখন শিউলিকে দেখতে দারুণ লাগে। মায়া ভরা চোখদুটি ছলছল করে ওঠে। যেন সদ্য ফোঁটা কোন অপরাজিতা ফুল। শিউলির সেই সুন্দর চোখদুটি দেখার জন্যই প্রতিদিন এখানে ছুটে আসে মুন্না। শিউলির ফুল বিক্রি শেষ হলে সেও মুন্নার পাশে এসে বসে। তারপর দুজনে অনেক সময় ধরে গল্প করে। গল্প বলতে কোন মানুষ মুন্নাকে তার অল্প একটু কাজের জন্য অনেক টাকা দিয়েছে। কে অকারণে মুন্নাকে থাপ্পড় মেরেছে। কোন লোকটার পেটে মুন্নার ছুরি বসিয়ে দিতে ইচ্ছে করছিল। এইসব গল্প। তবে শিউলি আসার আগে পর্যন্ত মুন্না তার ফুল বিক্রি দেখে। ওর কাছ থেকে সবাই ফুল কিনে খোঁপায় পরে। তারপর কেমন হাসতে হাসতে চলে যায়। কিন্তু শিউলির কি এমন ইচ্ছে করে না! সেও তো খোঁপায় ফুল জড়াতে পারে। এভাবে হাসতে পারে। নাকি ও ফুটপাতে থাকে বলে ওর খোঁপায় ফুল জড়াতে নেই। মুন্না ভাবে। এইতো গতকাল একজন রিকশা থামিয়ে শিউলির কাছ থেকে বেলী ফুলের মালা কেনে। তারপর রিকশায় বসে থাকা মেয়েটির খোঁপায় মালা পরিয়ে দিয়ে দুজনে হাসতে হাসতে রিকশায় চড়ে মুন্নার সামনে দিয়ে চলে যায়। রিকশা যখন মুন্নার সামনে দিয়ে চলে যায়, তখন একটা মিষ্টি গন্ধ এসে লাগে তার নাকে। খুব ভালো লাগে ওর। তারও ইচ্ছে হয় শিউলির খোঁপায় বেলী ফুলের মালা জড়িয়ে, ওকে নিয়ে রিকশায় ঘুরবে। তাই আজ সে বিশ টাকা বেশি রোজগার করেছে। এখানে আসার সময় একটি বেলী ফুলের মালাও কিনে এনেছ। আজ সে শিউলিকে নিয়ে রিকশায় ঘুরবে।

কিন্তু শিউলি এখনো আসছে না কেন? বিকালে ও একটা এনজিও স্কুলে পড়ে। অদ্ভুত স্কুল। রাস্তার ধারের খোলা জায়গায় স্কুল। যেখানে শুধু মেয়েরা পড়তে পারে, ছেলেরা নয়। পড়া শেষে ফুল বিক্রি করতে আসে। ওর মা ফুলের মালা গেঁথে দেয়। সেগুলোই সে বিক্রি করে। শিউলির মা আছে। কিন্তুর মুন্নার মা নেই। শিউলি যখন ফুল বিক্রি করে মায়ের কাছে ফিরে যায়, তখন মুন্নার খুব মন খারাপ হয়। তারও ইচ্ছে করে কাজ শেষ করে মায়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমাতে। কিন্তু সে পারে না। তার মা কে তাই তো সে জানে না।

প্রদিতিন সন্ধ্যায় কাজ শেষে এখানে এসে বসতো মুন্না। এখানে জ্যামে আটকে থাকা গাড়ির গুলোর মাঝে নানা বয়সী ছেলে মেয়ে নানান রকম জিনিস বক্রি করে। মুন্না বসে বসে সেগুলো দেখে। তার কর্মচাঞ্চল্য দেখতে বড় ভালো লাগে। তাই বসে থাকে। হঠাৎ সে একদিন অবাক হয়। একটা মেয়ে ফুল বিক্রি করছে। ফুল যে একটা বিক্রি করার জিনিস হতে পারে সেটা তার ভাবনাতেই ছিল না। মানুষ ফুল কেন কেনে? ফুল দিয়ে কি হয়। বড়লোকের আজব সব কাজকাম। বড়লোকের জন্মই হয় আজগুবি সব কাজ করার জন্য। ওদের কথা আর মুন্নার ভাবতে ইচ্ছে করে না। তার চোখ পড়ে যায় ল্যাম্প পোস্টের নীচে ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা তের চৌদ্দ বছরের মেয়েটির দিকে। লাল ফুলওয়ালা জামা পরে হাসছে মেয়েটি। মনে হয় আকাশ থেকে কোন পরী নেমে এসেছে। মুন্নার বড় ভালো লেগে যায় মেয়েটিকে। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সে। কথা বলতে ইচ্ছে হয়। আবার ভয়ও লাগে। যদি রেগে যায়। এভাবেই শিউলির সাথে মুন্নার দেখা। পরে কথা বলা, বন্ধুত্ব। এখন তারা খুব ভালো বন্ধু। প্রতি সন্ধ্যায় ওরা একসাথে গল্প করে। অনর্থক সব গল্প। এই অনর্থক গল্প করেই মুন্না তার জীবনের অর্থ খুঁজে পেয়েছে। এখন সে আরও ভালভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে। সে স্বপ্নের পুরোটা জুড়েই শিউলির বিচরণ।

রাত বেড়ে চলছে। কিন্তু শিউলি আজ এলো না কেন। কি হয়েছে ওর? মুন্নার ইচ্ছে করছে শিউলির মায়ের কাছে গিয়ে খোঁজ নিয়ে আসতে। কিন্তু কোথায় খোঁজ নিবে। ওরাও তো পথে পথে ঘুমায়। আজ এ রাস্তায়, তো কাল ও রাস্তায়। আজ কোথায় ঘুমিয়েছে কে জানে? চাইলেই তো আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। মুন্নার খুব কষ্ট হচ্ছে। বুকের ভিতরটা মনে হয় শুকিয়ে গেছে। কেমন যেন শূন্যতা, কেমন যেন হাহাকার। তার মাথায় নানান রকম দুশ্চিন্তা ভর করছে। কেউ শিউলিকে তুলে নিয়ে গেল না তো! ওদের মতো পথের মানুষের তো আর জীবনের দাম নেই। যার যখন ইচ্ছে, সে সেভাবে ব্যবহার করে। বিভিন্ন জায়গায় পাচার করে দেয়। যেন ওরা মানুষ নয়, পণ্য। ঠোকর খেতে খেতে বড় হওয়াটাই ওদের নিয়তি। মুন্নার দুশ্চিন্তা বেড়েই চলছে। হাত পা অবস হয়ে যাচ্ছে। সে পা চালাতে পারছে না। পায়ের ওজন মনে হয় কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। মুন্না বসে আছে। তার হাতে বেলী ফুলের মালা। শক্ত সে হাত। স্টেশনের কুলির হাত। হাতের মধ্যে ফুলগুলো লেপটে যাচ্ছে। রাত বেড়ে চলছে। ভয়ংকর নিকষ কালো সে রাত।

কাকের কা কা শব্দে মুন্নার ঘুম ভাঙে। দাঁড় কাক। শহরে দাঁড় কাক কেন? শহরে তো পাতি কাক থাকে। এখনো সূর্য ওঠেনি। তবে মানুষের আনাগোনা অনেক। সবাই মর্নিং ওয়াকে এসেছে। মুন্নার মাথা ঝিম ঝিম করছে। সে শিউলির কথা ভাবতে ভাবতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিল। মুন্না কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। না, তাকে বসে থাকলে চলবে না। শিউলিকে খুঁজে বের করতে হবে। সে উঠে দাঁড়ায়। “বুঝলেন আনোয়ার সাহেব, দেশের কি যে অবস্থা ভেবে পাই না। কারা যেন এনজিওর নাম করে পথ শিশুদের স্কুল খুলেছিল। গত রাতে নাকি তারা কতগুলো বাচ্চা মেয়েদের পাচারের জন্য নিয়ে যাচ্ছিলো। পুলিশ তাদের আটক করেছে। রমনা থানায় রেখেছ”। কথাগুলো বলতে বলতে দুজন মাঝ বয়সী লোক মুন্নাকে অতিক্রম করে যায়। মুন্না বড় একটি নিঃশ্বাস নিতে নিতে আকাশের দিকে তাকায়। কারেন্টের তারের উপর কতগুলো দাঁড় কাক বসে এসে। সে একটি ঢিল ছুড়ে মারার সাথে সাথেই দাঁড় কাক গুলো উড়ে যায়। মুন্না দ্রুত পায়ে রমনা থানার দিকে এগিয়ে যায়। তার চোখে খুশির ঝিলিক।

The post দাঁড় কাক

appeared first on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

Leave a Reply

%d bloggers like this: