শৈশবে যাদের শরীরে দেয়া হয়েছে বিসিজি বা ব্যাসিলাস ক্যালমেট-গুউরিন টিকা। এ মুহুর্তে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান ভাবতে পারেন যদি আপনার বাম হাতে থাকে বিসিজি টিকার দাগ। এটি যক্ষার প্রতিষেধক হিসেবে শৈশবে দেয়া হয়েছিল। আর এই টিকাই প্রতিরোধ করতে পারে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। বিশ্বে বিভিন্ন দেশ থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীদের প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি কলেজ অফ অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনের এক গবেষণায় এমনটি জানানো হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ডা. মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি দেখেছি। এটা একেবারেই প্রাথমিক ধারণা। এখনই সঠিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে যদি এটা সত্য হয় তাহলে আমাদের দেশের জন্য অবশ্যই ভালো এবং সুখবর। কারণ আমাদের শিশুদের প্রতিবছরই এই টিকা দেওয়া হয়। তাই করোনার ঝুঁকি কম হবে। এই দুর্যোগ থেকে আমাদের অনেকটাই বাঁচিয়ে দিবে।

ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিসিজি টিকা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। টিকার মাধ্যমে শরীরে হিউমোরাল ও সেলুলার প্রবেশ করে। এর মধ্যে সেলুলার শরীর থেকে ভাইরাস বের করে দেয়। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

এ বিষয়ে নিউ ইয়র্ক ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি কলেজ অফ অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনের পক্ষ থেকে বলা হয়, পৃথিবীর যে সব দেশে বিসিজি টিকাদান কর্মসূচি নেই যেমন ইতালি, নেদারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে দীর্ঘস্থায়ী টিকাদান কর্মসূচি যে সব দেশে চালু আছে ওইসব দেশের মানুষের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কম।

গবেষণায় দাবি করা হয়, বিসিজি টিকা আসার পর থেকে বিশ্বে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা হয়, মৃত্যুর হার বেশি হওয়ায় ১৯৮৪ সালে বিসিজি কার্যক্রম শুরু করে ইরান। দেশটিতে বিসিজি টিকা দেয়া মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি তেমন একটা পাওয়া যায়নি। এছাড়া ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিসিজি টিকা না দেয়ার কারণে চীন এবং ভারতের চেয়ে করোনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে গবেষণায় দাবি কর হয়।

The post করোনা থেকে বাঁচাবে, ১৯২১ সালের বিসিজি টিকা appeared first on bd24report.com.

Leave a Reply

%d bloggers like this: