পুঁজিবাজারের সবচেয়ে কম ঝুঁকির সেক্টর বলা হয় মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে। যে সকল বিনিয়োগকারী বিনিয়োগে ঝুঁকি নিতে চান না বা মার্কেটে বিনিয়োগ সম্পর্কে কম বোঝেন তাদের মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সেই মিউচ্যুয়াল ফান্ড দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে এগোতে পারছিল না। যার কারণে এখন পর্যন্ত ৮০ শতাংশ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ারদর অভিহিত মূল্যের নিচে রয়েছে।

এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন কমিশন গঠনে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে পুঁজিবাজার। নতুন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে পুঁজিবাজারে। এই ঊর্ধ্বমুখী বাজারে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এদিকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের প্রতি সুনজর দিয়েছে কমিশন। মিউচ্যুয়াল ফান্ডে গতি আনতে কাজ করবে কমিশন বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। সেই আশায় নতুন করে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ঝুঁকতে শুরু করেছেন বিনিয়োগকারীরা। দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর বাড়ছে।

গত ৬ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আগামীতে ভালোভাবে চলার জন্য মিউচ্যুয়াল ফান্ডে সুশাসন আনতে কাজ শুরু করেছে কমিশন। মিউচ্যুয়াল ফান্ড হবে এফডিআরের বিকল্প। মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে এফডিআরের বিকল্প করা গেলে বিনিয়োগ নিরাপদ ও লাভবান হবে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা যখন দেখবে এফডিআরে রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে ৫-৬ শতাংশ আর মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ১০ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে, তখন তারা এফডিআর ছেড়ে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দিকে ঝুঁকবে। সেই সময় বাজারে লেনদেন অনেক বেড়ে যাবে।

এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কমিশনের মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের মিউচ্যুয়াল ফান্ডে টানছে। ফলে দাম বাড়ছে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের।

আজ রোববার (১১ অক্টোবর) পুঁজিবাজারে যেখানে সব খাত ছিল নিম্নমুখী সেখানে আগ্রহের শীর্ষে ছিল মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এদিন ডিএসইতে ৩৫৫টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৮০টির, কমেছে ২৩৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর। যে ৮০টির দর বেড়েছে তার মধ্যে ২৮টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের। যেখানে পুঁজিবাজারে মোট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সংখ্যা ৩৭টি। অর্থাৎ ৭৫ শতাংশ মিউচ্যুয়াল ফান্ড আজ ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

গত একমাসের মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বাজার লেনদেনের চিত্রে দেখা যায়, বেশিরভাগ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ারদর ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে। গত একমাসে এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর বেড়েছে ২ টাকা ৩০ পয়সা। একমাস আগে ফান্ডটির ইউনিটের দর ছিল ৪ টাকা ৫০ পয়সা। আজ লেনদেন শেষে হয়েছে ৬ টাকা ৮০ পয়সা। অর্থাৎ এক মাসে এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

গত একমাসে ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর বেড়েছে ২ টাকা ৬০ পয়সা। একমাস আগে মিউচ্যুয়াল ফান্ডটির ইউনিটের দর দর ছিল ৪ টাকা ৮০ পয়সা। আজ লেনদেন শেষে হয়েছে ৭ টাকা ৪০ পয়সা। অর্থাৎ এক মাসে ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি। পুঁজিবাজারে এমন চিত্র বেশিরভাগ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের।

এছাড়া মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির আরও একটি কারণ হচ্ছে বেশিরভাগ ইউনিট দর এখনও অনেক কম। ৩৭টি ফান্ডের মধ্যে এখন অভিহিত দরের নিচে রয়েছে ৩১টি ফান্ডের ইউনিট দর। এ অবস্থা থেকে দর অভিহিত মূল্যের ওপরে চলে যেতে পারে এমনটি ভাবছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। কারণ ইতোমধ্যে ১০ টাকার নিচে দর থাকা অনেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার আবার অভিহিত দরে ফিরে গেছে। সে কারণেও অনেকে এ খাতের ইউনিটে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডস (এএএমসিএমএফ) এর সভাপতি ড. হাসান ইমাম বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড সেক্টরের কাঠামোগত বা আইনগত কোনো সমস্যা নেই। আসল সমস্যা পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদী মন্দা। যে কারণে মিউচ্যুয়াল ফান্ড সেক্টর ভালো লভ্যাংশ দিতে পারছে না। তাছাড়া অনেকের নেতিবাচক মন্তব্যের কারণেও মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইমেজ সংকট আছে, এতে কোনো সন্দেহ নাই। এই সেক্টর নিয়ে পত্রপত্রিকায় প্রায় নীতিনির্ধারক ও ক্যাপিটাল মার্কেট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মন্তব্য দেখি। বেশিরভাগ মন্তব্যই নেতিবাচক। কোনোটার পেছনে যুক্তি আছে, কোনোটা ভিত্তিহীন। এই নেতিবাচক মন্তব্য মিউচ্যুয়াল ফান্ড সেক্টর সর্ম্পকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিরূপ ধারণা তৈরি করেছে।

অর্থসূচক/এমআরএম/কেএসআর

The post কমিশনের সুনজর, মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা first appeared on ArthoSuchak.

Leave a Reply

%d bloggers like this: